জুয়ার বিশেষজ্ঞরা কি stages of change model ব্যবহার করেন?

হ্যাঁ, সমস্যাজনক জুয়ারোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই স্টেজেস অফ চেঞ্জ মডেল (ট্রান্সথিওরেটিক্যাল মডেল নামেও পরিচিত) ব্যবহার করেন। এটি একটি শক্তিশালী কাঠামো যা ব্যক্তিরা কীভাবে আচরণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় – যেমন জুয়া খেলা বন্ধ করা – তা বোঝাতে এবং পরিচালনা করতে সহায়তা করে। মডেলটি মূলত ধূমপান ত্যাগের জন্য তৈরি হলেও, এর কার্যকারিতার কারণে এটি আসক্তি পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে জুয়া আসক্তি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োগ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, আচরণগত হস্তক্ষেপে এই মডেল ব্যবহার করে ১২ মাসের মধ্যে জুয়া বন্ধ করার সাফল্যের হার ৩৫% থেকে ৬০%-এর মধ্যে বৃদ্ধি পায়।

এই মডেলটি কাজ করে এই ধারণার উপর ভিত্তি করে যে পরিবর্তন একটি রৈখিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি চক্রীয় প্রক্রিয়া যেখানে ব্যক্তিরা বিভিন্ন পর্যায়ে এগোয় এবং পিছিয়ে যায়। একজন জুয়ার বিশেষজ্ঞ-এর মূল কাজ হল ক্লায়েন্টকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে বোঝা যে সে এখন কোন পর্যায়ে আছে এবং তারপর সেই পর্যায়ের জন্য উপযুক্ত কৌশলগুলি প্রয়োগ করা। উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি জুয়ার সমস্যা আছে বলে স্বীকারই করে না, তার সাথে তর্ক করা বা পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া কার্যকর হবে না। বরং, বিশেষজ্ঞ তার জন্য প্রাক-চিন্তার পর্যায়ের কৌশল, যেমন ক্ষতির হ্রাস বা জাগরণ, প্রয়োগ করবেন।

স্টেজেস অফ চেঞ্জ মডেলের পাঁচটি মূল পর্যায় নিম্নরূপ:

১. প্রাক-চিন্তা (Precontemplation): এই পর্যায়ে ব্যক্তি জুয়া খেলাকে সমস্যা হিসাবে দেখে না বা পরিবর্তনের কথা ভাবেও না। তারা তাদের জুয়ার খেলার নেতিবাচক পরিণতিগুলো অস্বীকার বা উপেক্ষা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এখানে “জাগরণ” তৈরি করতে কাজ করেন – অর্থাৎ, সমস্যার অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ান। এজন্য তারা ফিডব্যাক দেন, জুয়ার financial loss বা relationship-এর উপর প্রভাবের ডেটা দেখান। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, বিশেষজ্ঞরা পরিবারের সদস্যদের জড়িত করে একটি নন-কনফ্রন্টেশনাল আলোচনার ব্যবস্থা করতে পারেন।

২. চিন্তা (Contemplation): ব্যক্তি স্বীকার করে যে তার একটি জুয়ার সমস্যা থাকতে পারে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটা নিয়ে কিছু করার কথা ভাবছে। তবে, এখানে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে। পরিবর্তনের ইতিবাচক দিক এবং নেতিবাচক দিক (যেমন, উত্তেজনা হারানো বনাম financial stability অর্জন) নিয়ে তারা ধাঁধায় পড়ে থাকে। বিশেষজ্ঞের ভূমিকা হল এই দ্বন্দ্বের সমাধান করতে সাহায্য করা, পরিবর্তনের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা এবং barriers গুলো চিহ্নিত করা।

৩. প্রস্তুতি (Preparation): এই পর্যায়ে ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে পরিকল্পনা করছে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করছে। তারা হয়তো already কিছু ছোটখাটো পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন একটি gambling app ডিলিট করা বা daily betting-এর budget কমানো। বিশেষজ্ঞ এখানে একটি concrete plan তৈরি করতে সাহায্য করেন। এই পরিকল্পনায় trigger management (কোন পরিস্থিতিতে জুয়া খেলার ইচ্ছা জাগে), alternative activities (জুয়ার বিকল্প হিসেবে কি করা যায়), এবং support system (কে সাহায্য করতে পারে) এর বিস্তারিত থাকবে।

৪.行动 (Action): এটি সক্রিয় পরিবর্তনের পর্যায়, যেখানে ব্যক্তি জুয়া খেলা বন্ধ করতে explicit steps নেয়। এই পর্যায়টি সাধারণত ৬ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বিশেষজ্ঞ এখানে ক্লায়েন্টকে স্ব-নিয়ন্ত্রণ কৌশল শেখান, relapse prevention plan তৈরি করতে সাহায্য করেন এবং নিয়মিত ফলো-আপের মাধ্যমে সমর্থন দেন। Cognitive Behavioral Therapy (CBT) এর মতো কৌশলগুলি এই পর্যায়ে খুবই কার্যকর।

৫. রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance): জুয়া না খেয়ে ৬ মাস以上的 সময় কাটানোর পর ব্যক্তি এই পর্যায়ে প্রবেশ করে। এখানে লক্ষ্য হল নতুন, জুয়া-মুক্ত lifestyle টিকে রাখা এবং relapse এড়ানো। বিশেষজ্ঞের support কমে আসতে পারে, কিন্তু তারা relapse এর signs সম্পর্কে সতর্ক থাকেন এবং দীর্ঘমেয়াদী coping strategies শক্তিশালী করতে কাজ করেন।

এই মডেলের কার্যকারিতা ডেটা দ্বারা সমর্থিত। নিচের টেবিলটি দেখায় কীভাবে বিশেষজ্ঞদের হস্তক্ষেপ প্রতিটি পর্যায়ে সাফল্যের হারকে প্রভাবিত করে:

পর্যায়হস্তক্ষেপের ধরন৬ মাসে সাফল্যের হার (প্রায়)ব্যবহৃত কৌশলের উদাহরণ
প্রাক-চিন্তামোটিভেশনাল ইন্টারভিউিং১০-১৫%ক্ষতির হ্রাস কৌশল, সচেতনতা বৃদ্ধি
চিন্তাডিসিশন ব্যালেন্স শীট২৫-৩৫%পক্ষ-বিপক্ষের তালিকা তৈরি, লক্ষ্য নির্ধারণ
প্রস্তুতিকনক্রিট অ্যাকশন প্ল্যান৫০-৬০%ট্রিগার ম্যানেজমেন্ট, বিকল্প কার্যক্রম পরিকল্পনা
行动সিবিটি, রিল্যাপ্স প্রিভেনশন৭০-৮০%স্ব-নিয়ন্ত্রণ প্রশিক্ষণ, নিয়মিত মনিটরিং
রক্ষণাবেক্ষণবুস্টার সেশন, সহায়তা গোষ্ঠী৮৫%+দীর্ঘমেয়াদী coping কৌশল, সামাজিক সমর্থন জোরদার করা

একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ শুধু মডেলটিই প্রয়োগ করেন না, বরং বাংলাদেশের socio-cultural context-এর সাথে এটিকে খাপ খাইয়ে নেন। উদাহরণস্বরূপ, “ইজ্জত” বা সম্মানের ধারণা, পারিবারিক চাপ, এবং financial hardship-এর মতো বিষয়গুলো প্রায়শই জুয়া আসক্তির সাথে জড়িত। তাই, একজন local বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার পাশাপাশি family therapy-এর উপর জোর দেন এবং community-based support group-এর সাথে যুক্ত হতে উত্সাহিত করেন, যা আন্তর্জাতিক প্রোটোকল থেকে এই মডেলের application-কে আলাদা করে তোলে।

মডেলটির একটি বড় শক্তি হল এর নমনীয়তা। এটি স্বীকার করে যে relapse বা পিছিয়ে যাওয়া পরিবর্তন প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক অংশ। একজন বিশেষজ্ঞ relapse-কে failure হিসেবে না দেখে, বরং এটি থেকে শেখার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন এবং ক্লায়েন্টকে আবারো action বা preparation stage-এ নিয়ে আসতে সাহায্য করেন। এই পদ্ধতি hope বজায় রাখতে এবং হতাশা কমাতে সহায়ক, যা দীর্ঘমেয়াদী recovery-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে, এটি বলা গুরুত্বপূর্ণ যে stages of change model সাধারণত একা ব্যবহৃত হয় না। জুয়ার বিশেষজ্ঞরা এটিকে অন্যান্য evidence-based therapy যেমন Cognitive Behavioral Therapy (CBT), Motivational Interviewing (MI), এবং financial counseling-এর সাথে একীভূত করেন। এই সমন্বিত পদ্ধতিই একজন ব্যক্তিকে জুয়া আসক্তি থেকে long-term recovery-এর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সর্বোত্তম সুযোগ দেয়। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রসারের সাথে সাথে, এই ধরনের কাঠামোগত মডেলের ব্যবহার সমস্যাজনক জুয়ারোধে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
Scroll to Top